April 26, 2026, 4:47 pm
শিরোনাম :
শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বড়াইল নামক স্থান হতে মালিকবিহীন অবস্থায় ১২ (বারো) বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। যার সিজার মূল্য ১৮,০০০/- (আঠারো হাজার) টাকা। ধানের শীষ বিজয়ী হলে দেশে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে : খান জামাল ১১ পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল সিলেটের গোলাপগঞ্জে ১ কোটি ৩৪ লাখ ১৬,৮২০ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাচালানের পণ্য জব্দ করেছে গোলাপগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। আ.লীগ আমলে সিলেট ছিল বঞ্চিত, বৈষম্যের শিকার: ফয়সল চৌধুরী সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরী বলেছেন, আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা হচ্ছে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের একটি মডেল। জকিগঞ্জ সীমান্ত থেকে ১৮ লক্ষ টাকার ভারতীয় মহিষ জব্দ বিয়ানীবাজার মালিগ্রাম সড়ক সংস্কারে ইট ও বালু প্রদান করলেন মাওলানা ফখরুল ইসলাম জুড়ি উপজেলার বড়ইবাড়ী নামক স্থান হতে মালিকবিহীন অবস্থায় ০৫ (পাঁচ) বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করতে সিলেটে এখনো উদ্ধার হয়নি উদয়ন

৩১ দফার বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবেন নারীরা: ফয়সল আহমদ চৌধুরী

Reporter Name

৩১ দফার বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবেন নারীরা: ফয়সল চৌধুরী
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জেলা বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় ছিল, তখনই নারী সমাজের উন্নয়নে কাজ করেছে। বিএনপি নারীদেরকে ভিন্ন চোখে দেখে না। বিএনপি মনে করে, নারীরা পুরুষের সহযাত্রী এবং নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে ওঠবে। এজন্য নারীদের উন্নয়নে তাদেরকে সমাজের মূলধারার সাথে সমানতালে এগিয়ে নিতে দেশনায়ক তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বিএনপির সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী দুঃশাসনে বঞ্চিত নারী সমাজ তাদের যথাযথ মর্যাদা ও অধিকার ফিরে পাবে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোলাপগঞ্জ উপজেলার শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফার পক্ষে জনমত গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত মহিলা সমাবেশ ও সবজি বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ফয়সল চৌধুরী আরও বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফার পক্ষে জনমত গঠনে নারীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। কারণ, নারীরা ঘরে ঘরে যেতে পারেন। তাদের সাথে মা-বোনদের সহজাত সুসম্পর্ক থাকে। ফলে নারীদের মাধ্যমে ৩১ দফার বার্তা ঘরের অন্দরমহলে পৌঁছে দেওয়া সহজ। এ লক্ষ্যে আমাদের বিএনপি, মহিলা দল কিংবা যুবদল, ছাত্রদলে যেসব নারী, তরুণী আছেন, তারা কার্যকর ভূমিকা রাখছেন। তাদেরকে আরও সক্রিয় হতে হবে। ক্ষমতায় এলে কৃষির উন্নয়নে বিএনপি আন্তরিকভাবে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে উল্লেখ করে ফয়সল চৌধুরী বলেন, কৃষি আমাদের প্রাণ। এ দেশ কৃষির উপর নির্ভরশীল। ফলে কৃষির উন্নয়ন, অগ্রগতি নিয়ে বিএনপি অবশ্যই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। কৃষকদের বাঁচাতে তাদেরকে বেশি করে সহযোগিতা প্রদান, প্রণোদনা দেওয়া, বিনামূল্যে সার ও বীজ দেওয়াসহ নানা কাজ করবে বিএনপি। স্পেন প্রবাসী শুক্কুর আরীর সার্বিক সহযোগিতায়, সাবেক মেম্বার নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও ৩নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কাজী বেলাল আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আশফাক আহমদ চৌধুরী, ক্ষুদ্র ও ঋণ সমবায় সম্পাদক খুরশেদ আলম, বাদেপাশা ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক শাহিন আহমদ, সহ সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন, শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক দলের সভাপতি শওকত আলী, শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি হাফিজ উদ্দিন, আরও উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির ১নং ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাতাব উদ্দিন, সহ সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, ২নং ওয়ার্ডের সহ সভাপতি আব্দুল আলী, সাধারণ সম্পাদক হাবি সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান মিয়া, বিএনপি নেতা আজম আলী, শুক্কুর আলী, ৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সহ সাধারণ সম্পাদক সাহাজান মিয়া, বিএনপি নেতা মুক্তার আলী, ৪নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা রেজান মিয়া, বাংলাদেশ ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের শরীফগঞ্জ শাখার সভাপতি জিতু দাস, মহিলাদল নেত্রী শরিফা, রিনা, আছমা, শাহিদা, সিলেট মহানগর ছাত্রদলের আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী সানি, সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহ সভাপতি তানিম চৌধুরী, বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়করেজাউল হক রেজা, বাদেশ্বর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হুসাম উদ্দিন, ২ নং গোলাপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মারজান রহমান, দপ্তর সম্পাদক তানজিল ইসলাম চৌধুরী, ছাত্রদল নেতা, অমিত ইসলাম, তানভীর আহমদ, বাদেশ্বর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা রাহিদ আহমদ, মারজান রহমান, বাদেপাশা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি কামরান হোসেন, সহ সভাপতি আফছর উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক আববাস ইবনে খলিল, সদস্য কামরুল হাসান জাকারিয়া রাফি আহমদ, কুশিয়ার ডিগ্রি কলেজের সিনিয়র সহ সভাপতি তাহমিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক রাহেল আহমদ, ঢাকাদক্ষিণ সরকারী কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক মাহবুজ মারজান, এমসি কলেজ ছাত্র দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মজিদ, কুশিয়ারা কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল বাছিত, জাসাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাবের আহমদ প্রমুখ। এছাড়াও শরিফগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের সকল পযার্য়ের বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও এলাকার সকল শ্রেণী পেশার মানুষ সভায় উপস্থিত ছিলেন। শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফার পক্ষে জনমত গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত মহিলা সমাবেশ ও সবজি বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখছেন ফয়সল আহমদ চৌধুরী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা

ভূমিকম্পের ‘ডেঞ্জার জোন’ বা ‘ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল’ সিলেট। একাধিক চ্যুতি সক্রিয় থাকায় সিলেটকে ভূমিকম্পের ‘ডেঞ্জার জোন’ চিহিৃত করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে সর্বশেষ রোববার বিকাল ৫টা ১১ মিনিটে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে কেঁপে উঠে সিলেট। ৫ দশমিক ৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট থেকে ১৯৩ কিলোমিটার দূরে ভারতের আসামের উদালগুড়ি জেলা ‘কপিলি ফল্ট’ জোনে। ভূমিকম্পের পর সোমবার বিকাল পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টায় আরও সাতটি ‘আফটারশক’ রেকর্ড করা হয়। আসামের এ ভূমিকম্প সিলেটের জন্য সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এগুলো স্বাভাবিক হলেও আসল উদ্বেগ লুকিয়ে আছে কপিলি ফল্টে জমে থাকা বিপুল শক্তিতে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুর ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম বলেন, কপিলি ফল্ট ডাউকি ফল্টের তুলনায় অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। ডাউকিতে অতীতে একাধিক ভূমিকম্প হয়ে শক্তি আংশিকভাবে বের হয়ে গেছে। কিন্তু কপিলিতে এখনো বিপুল শক্তি জমে আছে, যা যে কোনো সময় বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটাতে পারে। তিনি আরও বলেন, জাপানের গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরে কপিলি ফল্ট নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাই নীতিনির্ধারকদের উচিত ডাউকির পাশাপাশি কপিলিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া। ভৌগোলিকভাবে সিলেটের দক্ষিণ প্রান্তে ডাউকি ফল্ট এবং উত্তর-পূর্বে ভুটান সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত কপিলি ফল্ট দুটিই সিলেটের কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে এদের যে কোনো একটিতে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে সিলেট নগরী ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সিলেট সিটি করপোরেশন-সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২১ ও ২২ সালে কয়েক দফায় ভূমিকম্পের পর ঝুঁকি মোকাবিলায় কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল সিলেট সিটি করপোরেশন। ভূমিকম্পের ক্ষতি কমাতে ২০২১ সালের মে মাসে ঝুঁকিপূর্ণ ছয়টি বিপণিবিতান বন্ধ করে দেয় সিটি করপোরেশন। এগুলো ভেঙে ফেলা হবে বলেও সে সময় জানানো হয়েছিল। তবে ভেঙে তো ফেলা হয়নিই, উল্টো কিছুদিন বন্ধ থাকার পর ফের খুলেছে ঝুঁকিপূর্ণ বিপণিবিতানগুলো। এদিকে, সিলেটের ৪২ হাজার বহুতল ভবনের ভূমিকম্পের সহনীয়তা পরীক্ষার উদ্যোগও আটকে আছে। সিটি কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থের অভাবে ভবন পরীক্ষা করানো যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের মে ও জুনে পরপর ছয় দফা ভূমিকম্পের পর বড় ভূমিকম্পে ক্ষতি কমিয়ে আনতে নগরীর সব বহুতল ভবনের ভূমিকম্প সহনীয়তা পরীক্ষা ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে ফেলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এরপর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে নগরীর বন্দরবাজার ও জিন্দাবাজার এলাকার কিছু ভবন পরীক্ষা করা হয়। এই বিশেষজ্ঞ দলের সদস্য ছিলেন শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও পুর প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জহির বিন আলম। তিনি বলেন, ‘সিলেটের ভবনগুলো গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিতভাবে। ৭৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভবনই ভূমিকম্পের কথা চিন্তা না করে তৈরি করা হয়েছে। ফলে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই ৮০ শতাংশ বহুতল ভবন ভেঙে পড়তে পারে।’ তার ভাষায়, ‘সাত মাত্রার ভূমিকম্প এক প্রকার অ্যাটম বোমার মতো ধ্বংস ডেকে আনতে পারে। এমনকি ছয় মাত্রার ভূমিকম্প হলেও নগরীর পুরনো ভবনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে আশার কথা হলো, সাম্প্রতিক সময়ে যেসব নতুন ভবন নির্মিত হচ্ছে, সেগুলো ভূমিকম্প প্রতিরোধী কাঠামোয় তৈরি হচ্ছে বলে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।’ এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘দু-চারটি ভবন নয়, বরং নগরীর সব ভবন একসঙ্গে পরীক্ষা করাতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ সব ভবন ভেঙে না ফেলে রেকটিফাইটিংও করা যেতে পারে। সাপোর্টিং পাওয়ার দিয়ে ভূমিকম্প প্রতিরোধক হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে।’ এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘আমরা গবেষণায় দেখেছি যে, বাংলাদেশের ভূমিকম্পের দু’টি উৎস আছে। একটি উত্তরের দিকে, আরেকটা হচ্ছে পূর্ব দিকে। উত্তরের দিকটা হলো- ডাউকি ফল্ট (ডাউকি চ্যুতি)। এবার যে ভূমিকম্প হলো, সেই হিমালয়ন মেইন ফ্রন্টাল থ্রাস্ট বেল্টে। সেটা আমাদের ভূমিকম্পের আরেকটি উৎসস্থল ডাউকি ফল্টেরই কাছাকাছি।’ এ ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘সিলেট থেকে কক্সবাজার বা চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই অংশটা খুব বিপজ্জনক। কেন না এখানে হাজার বছরের ওপরে বড় ভূমিকম্প হয়নি। অর্থাৎ যে শক্তিটা জমা হয়ে রয়েছে বা ক্রমাগত জমা হচ্ছে, গত এক হাজার বছরেও এই কেন্দ্রটা সেই শক্তিটা ছাড়েনি। আমরা গবেষণায় দেখেছি, এখানে ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার শক্তিসম্পন্ন ভূমিকম্প সৃষ্টি হওয়ার মতো শক্তি জমা হয়ে আছে। এটি যে কোনো সময় আঘাত হানতে পারে।’ জানা গেছে, বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষার পর ২০২১ সালের ৩০ মে নগরীর ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রকাশ করে সিটি কর্তৃপক্ষ। ওই দিনই নগরীর সুরমা মার্কেট, সিটি সুপার মার্কেট, মধুবন সুপার মার্কেট, সমবায় মার্কেট, মিতালী ম্যানশন ও রাজা ম্যানশন নামের সাতটি বিপণিবিতানকে ১০ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। একই সময়ে নগরের প্রায় ৪২ হাজার বহুতল ভবন পরীক্ষার উদ্যোগ নেয় সিটি করপোরেশন। কিন্তু কোনো উদ্যোগই আর আগায়নি। তালিকায় থাকা ২৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে সংস্কারের মাধ্যমে ছয়টি ঝুঁকিমুক্তও করা হয়। কিন্তু এ প্রক্রিয়া আর এগোয়নি। এখনো ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ১৮টি ভবন। সিটি করপোরেশন কর্মকর্তাদের বলেছেন, ‘নগরীর অতিঝুঁকিপূর্ণ ১০টি ভবন বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে এগুলো সংস্কার করতে বলা হয়। কিন্তু মালিকপক্ষ তা শোনেননি। এ ভবনগুলো ভাঙার উদ্যোগ নিলে গেলে তারা আদালতে মামলা ঠুকে দেন। এমতাবস্থায় আর এগোনো যায়নি।’ যদিও নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার। কিন্তু কিভাবে, কোথায় এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে- তা বলতে পারেননি তিনি। সিটি করপোরেশনের এক কর্মকর্তা জানান, নগরীর ৪২ হাজার ভবনে ভূমিকম্পের সহনীয়তা নিয়ে প্রকৌশলগত বিস্তারিত মূল্যায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল সিলেট সিটি করপোরেশন। এ জন্য ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপও হয়। ওই প্রতিষ্ঠানটি চারতলা একটি ভবন মূল্যায়নের জন্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ফি চায়। সেই হিসেবে সব মিলিয়ে নগরীর ৪০-৪২ হাজার ভবন পরীক্ষা করাতে ২৫-৩০ কোটি টাকার প্রয়োজন। কিন্তু সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই খাতে এত বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করার মতো তহবিল নেই। তাই এখনো এ ব্যাপারে কোনো চুক্তি করা সম্ভব হয়নি। ভূমিকম্প সহনীয়তা পরীক্ষার উদ্যোগ তখনই মাঝপথেই আটকে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ভূমিকম্পপ্রবণ সিলেটে শুধু ডাউকি নয়, কপিলি ফল্টকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে গবেষণা, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রস্তুতি নিতে হবে। একই সঙ্গে পুরোনো ভবনের সংস্কার, নতুন ভবনে ভূমিকম্প প্রতিরোধী নকশা বাধ্যতামূলক করা এবং জরুরি উদ্ধার সক্ষমতা বাড়ানো ছাড়া বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে সিলেটবাসীকে রক্ষা করা সম্ভব নয়।’ সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্তমান আয়তন ৭৯ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। ২০২১ সালে সীমানা বর্ধিত করার পূর্ব পর্যন্ত আয়তন ছিল ২৬ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার। পূর্বের আয়তনের তালিকাভুক্ত হোল্ডিংয়ের সংখ্যা প্রায় ৭৪ হাজার। এর মধ্যে দুই থেকে ২১তলা পর্যন্ত ভবন রয়েছে ৪১ হাজার ৯৯৫টি। সীমানা বাড়ানোর পর ভবনের সংখ্যা আর জরিপ করা হয়নি।